অস্ট্রেলিয়ার প্রথম হিজাব পরিহিতা সিনেটর ২৭ বছর বয়সী ফাতিমা

মাত্র ২৭ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে ইতিহাস গড়ছেন ফাতিমা পেমান। তিনি এই দেশটির প্রথম হিজাব পরিহিতা সিনেটর হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রথম কোনো আফগান-অস্ট্রেলিয়ান রাজনীতিক হিসেবে পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান পার্লামেন্টর সর্বকনিষ্ঠ আইনপ্রণেতাও ফাতিমা। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

এদিকে সিনেটর পদে নির্বাচিত হওয়া ও ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়ার এই অর্জনের জন্য নিজের বাবাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন ফাতিমা পেমান। যদিও সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার আগেই ফাতিমার বাবা মারা যান। বিবিসিকে ফাতিমা বলেছেন, সিনেটর হিসেবে তার নির্বাচিত হওয়া অস্ট্রেলিয়ার মুসলমানদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলছে, গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম হিজাব পরিহিতা সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন ফাতিমা পেমান। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই এই ইতিহাস গড়েন তিনি।

 

নির্বাচিত হওয়ার পর ফাতিমা পেম্যান অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে নিজের প্রথম বক্তৃতা শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় তিনি তার বাবার আ’ত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। ফাতিমার বাবা একজন আফগান শ’রণা’র্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান এবং ২০১৮ সালে মারা যান।

নিজের প্রথম বক্তৃতায় ফাতিমা বলেন, ‘কে ভেবেছিল যে আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়া এক তরুণী এবং একজন শরণার্থীর মেয়ে আজ এই চেম্বারে দাঁড়িয়ে থাকবে?’

২০০৩ সালে মাত্র ৮ বছর বয়সে শরণার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান ফাতিমা পেমান। এসময় বাবা ছাড়াও তার সঙ্গে ছিলেন মা এবং তিন ছোট ভাইবোন। শরণার্থী হিসেবে জীবন শুরুর পর সেখানে তার বাবা ট্যাক্সি ড্রাইভার এবং নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কাজ করেন।

অন্যদিকে ফাতিমা পার্থের অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ডাক্তার হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু ডাক্তার হওয়ার পরিবর্তে ফাতিমা একপর্যায়ে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

জিও নিউজ বলছে, ২০১৮ সালে পেম্যানের বাবা মাত্র ৪৭ বছর বয়সে লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান এবং দুর্ভাগ্যবশত মেয়েকে সিনেটর হতে দেখার আগেই মৃত্যু হয় তার। এছাড়া নিজের হিজাব পর নিয়ে অনেকের উদ্বেগ থাকা নিয়েও কথা বলেন ফাতিমা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হিজাব পরা তার পছন্দ।

ফাতিমা আরও বলেন, ‘যারা আমাকে কী পরিধান করা উচিত সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে বা আমার বাহ্যিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমার যোগ্যতা বিচার করতে চান, তারা জেনে রাখুন- হিজাব পরিধান করা আমার পছন্দ।’

তার ভাষায়, ‘আমি তরুণ, আমি প্রগতিশীল, এবং আমার পরিবার বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে – আমি আধুনিক অস্ট্রেলিয়ার একজন প্রতিনিধি।’

Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ